সোমবার, ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:০২ পূর্বাহ্ন

কাজ শুরুর আগেই বিল উত্তোলন 

যোগসাজশে সরকারি সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ

এম এ রকি : লাগামহীণ দুর্নীতি ও অনিয়মে জর্জরিত জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। কাজ শুরু হওয়ার আগেই বিল প্রদান, প্রকল্পের অর্থ তছরুপ এবং সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির কর্তাব্যক্তিদের বিরুদ্ধেই। রাজধানীর মিরপুরস্থ ১৫ নং সেকশনে সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ‘জয় নগর’ ৫২০ আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ এবং একই সেকশনে ১২৫০ বর্গফুট আয়তনের ১০০ ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পদ্বয়ে ১৯ কোটি ১ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা কাজ শুরুর আগেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করেন।

তদন্ত কমিটি উভয় প্রকল্পের প্রদেয় টাকার সরকারি কোন নথি পাননি। ফলে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী (চ.দা) মুনিফ আহমদকে ১৯৩ তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিভাগীয় মামলা ও সাময়িক বরখাস্ত করেন। পরবর্তীতে ১৯৮ তম বোর্ড সভায় তার বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ তছরুপ ও আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণীত হওয়ায় মুনিফ আহমেদকে চাকরি থেকে চুড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়। বিষয়টি নিযে তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরপরেও থেমে নেই জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের ঘুষ ,দুর্নীতি ও অনিয়ম। এবার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারি সম্পদ আত্মসাত ও কোটি কোটি টাকা জ্ঞাত আয় বর্হিভুত সম্পদ অর্জনের বিষয়ে ৪ জনকে অভিযুক্ত করে তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অভিযুক্ত চার জন হলেন সদস্য প্রকৌশল ও সমন্বয় ফজলুল কবির বর্তমান কর্মস্থল প্রধান কর্যালয়, এ কে এম সামছুদ্দোহা প্রশাসনিক কর্মকর্তা(চ.দা)বর্তমান কর্মস্থল খুলনা অফিস, মনসুর উপসহকারী প্রকৌশলী বর্তমান কর্মস্থল মিরপুর ও মোস্তফা কামাল শাহীন অফিস সহকারী বর্তমান কর্মস্থল কুমিল্লা। অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, প্রকৌশল বিভাগের সিন্ডিকেট সদস্য প্রকৌশল ও সমন্বয়কে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। চাকরি শেষে তিনি বর্তমানে একই পদে চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগে আছেন। আর এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামসুল আলম ও রাজশাহী সার্কেলের সাইদ রেজা।

বিশ্ব ব্যাংকের গৃহিত প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ ও কুমিল্লার প্রকল্পে কোন কাজ না করে অর্থ ভাগ বাটোয়ারা করেন। কিন্তু অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রকল্প দুটিতে কিছু কাজ চলমান যা বৃষ্টির কারণে আটকে আছে। আর বিশ্ব ব্যাংকের ছাড়কৃত অর্থ কনসাল্টেনশি ফার্ম, বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধি ও গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধির সমন্বিত মতামতের ভিত্তিতে খরচ করা হবে। এককভাবে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের ব্যয় করার এখতিয়ার নেই বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, প্রতিটি অফিসে সিন্ডিকেট থাকার কারনে ২০০০ টাকা স্কয়ার ফিটের ফ্ল্যাট ৬০০০ টাকায় বিক্রী হচ্ছে। এসব বিষয়ে শামসুল আলমকে ফোন দিলে তাকে পাওয়া যায়নি। সাইদ রেজা হজে¦ থাকার কারনে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রাসাশনিক কর্মকর্তা সামছুদ্দোহা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সিবিএ নেতা হওয়ায় তার নিজস্ব একটি সিন্ডিকেট আছে। দীর্ঘ ১০ বছর গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সর্ববৃহৎ হাউজিং এস্টেেটর দায়িত্বে ছিলেন। সে সুবাদে শহিদ,মোশারফ ও ফুয়াদ’কে দিয়ে নিজস্ব বাহিনী তৈরী করেছিলেন। ঢাকা শহরে তার কয়েকটি ফ্ল্যাট আছে। তার অনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য ইতোপুর্বে তিনি ২ বছর সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন। সেসময় তার বাহিনী দিয়ে সরকারি অফিসে তালা দিয়েছিলেন সামছুদ্দোহা। পুর্বের দুদকের মামলায় এজাহারভুক্ত আসামী এবং মামলা চলমান। তিনি নিয়মিত অফিস করছেন। সামছুদ্দোহার সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান অফিসিয়াল কাজে সচিবালয়ে থাকায় সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে দাপ্তরিক কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

অন্যান্য খবর

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com