সোমবার, ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:০৩ পূর্বাহ্ন

মোস্তফা কামাল শাহিনের সম্পদের গল্প

মোস্তফা কামাল শাহিনের সম্পদের গল্প

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ

এম এ রকি : জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে’র তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী মোস্তফা কামাল শাহিনের উপার্জিত সম্পদের বিবরণ রুপকথার গল্পকে হার মানায়। তিনি ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০০৭ সালে হিসাব সহকারী পদে যোগদান করেন। চাকরিতে যোগদান করার পর সুচতুর শাহিন জানতে পারেন হিসাব সহকারী পদে চাকরি করলে ভবিষ্যতে কোন পদন্নোতি পাবেন না। তাই অবৈধভাবে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে পদ পরিবর্তন করে অফিস সহকারী পদ বাগিয়ে নেন। কারন অফিস সহকারী পদে যোগদান করলে পদন্নোতি পাওয়া যাবে।

এরপর শুরু হয় তার অবৈধ উপায়ে সম্পদ উপার্জনের মিশন। সম্প্রতি তার সম্পদের ভান্ডারের খোঁজে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযোগে মোস্তফা কামাল শাহিনের সম্পদের বিবরণ দেখে খোদ গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হতবাক।

শাহিন নিজ নামে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কুষ্টিয়া হাউজিং এস্টেটের ব্লক ‘ডি’তে সড়ক নং-২০ এর প্লট নং ১/১ এর মালিক। যাহার বরাদ্দের স্মারক নং-জাগৃক/রাডি/কুষ্টিয়া/এফ/ডি১/১/২৩৭, তারিখ ১৫ মার্চ ২০১৬। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। একই প্রতিষ্ঠানের কক্সবাজার হাউজিংয়ের দালান নং-৪, ফ্ল্যাট নং-এ/৪ নিজ নামে নিয়েছেন। মিরপুর হাউজিং এস্টেটের ৬০০ ফ্ল্যাট প্রকল্পে ৮০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট নিয়ে পরবর্তীতে তিনি ৪০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেন। এছাড়াও মিরপুর হাউজিং এস্টেটের সেকশন -৬, ‘এ’ ব্লকের লেন-৩, আবাসিক প্লট নং-৪০/৩ আয়তন ৫ কাঠা প্লটটির মালিক তিনি যেখানে একটি ছয়তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ সুত্রে জানা যায়। বাড়িসহ প্লটটির বাজার মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মিরপুরস্থ সেকশন-১৪ তে ২৫০০ বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাট দ্বিতীয় তলায় ক্রয় করেছেন। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। স্ত্রী’র নামে মিরপুর ডাকঘরে এফডিআর করেছেন যা তার আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ নাই।

মিরপুর ওয়ান ব্যাংক শাখায় ১১২০৫০০০১৩৪৪-নং সঞ্চয়ী হিসাবে বিপুল পরিমান অর্থ জমা রয়েছে। তিনি আলীশান জীবন যাপন করেন। গ্রামের বাড়ি করেছেন রাজকীয় প্রাসাদ। নিজে ব্যবহার করেন ঢাকা মেট্রো গ-২৫-৩৫৬৮ নম্বরের একটি বিলাশ বহুল প্রিমিও প্রাইভেট কার। আলোচিত ব্যক্তি শাহিন এসব অর্থ উপার্জনে অবৈধ পথে করেছেন নানা জালিয়াতি। আর তৈরী করেছেন গৃহায়নের প্রধান কার্যালয় ও মিরপুর অফিসে নিজস্ব সিন্ডিকেট। তিনি অফিসে অনুপস্থিত থাকলেও তার কর্মকান্ড থেমে থাকে না। সিন্ডিকেট দ্বারা পরিচালিত হয় সকল অনৈতিক কর্মকান্ড আর কাজ শেষে তিনি দালাল সিন্ডিকেটে ঘুষের টাকা ভাগাভাগি করে দেন।

নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে রুপনগরে ২৫ নং সড়কে ১১ ও ৩১ নং প্লট, ৪০ নং সড়কে ১২ নং প্লট এবং ২৯ নং সড়কে ৩৪ নং প্লটের ভূয়া মালিক সাজিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আত্মসাত করেছেন। সবথেকে আলোচিত ঘটনা মিরপুরস্থ সেকশন-৮ ব্লক-ক, সড়ক নং-১৬ এর ৭,৮,৯ ও ১০ নং প্লটগুলো বিপুল পরিমান অর্থের বিনিময়ে একটি জালিয়াত চক্রকে মালিক সাজিয়ে আত্মসাত করেছেন। সাধারন একজন কর্মচারী হয়েও মোস্তফা কামাল শাহিন গত বছর ১০ থেকে ১৫ বার বিদেশ সফর করেছেন। বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদ অর্জন ও যোগসাজশে সরকারি সম্পদ আত্মসাতের বিষয় আমলে নিয়ে অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক।

অভিযুক্ত মোস্তফা কামাল শাহিন বর্তমান কর্মস্থল কুমিল্লায় থাকায় তার সাথে মুঠো ফোনে যোগাযােগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে জানান, দুদক থেকে প্রেরিত চিঠি তিনি পাননি। পরবর্তীতে আবার যোগাযোগ করে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে, পারিবারিক সমস্যায় আছেন বলে ফোন কেটে দেন।

অন্যান্য খবর

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com