সোমবার, ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:০৮ অপরাহ্ন

প্রকৌশলী ফজলে রাব্বীর অবৈধ সম্পদ

প্রকৌশলী ফজলে রাব্বীর অবৈধ সম্পদ

পরকীয়ায় বলি একটি সংসার

এম এ রকি : সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করার পরেও কতিপয় দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীর কারণে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডে অতিমাত্রায় গতি পায় না। মাঠ পর্যায়ে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতি রোধে সরকারের জেলা প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর থাকার পরেও রহস্যজনক কারণে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। লাগামহীন দুর্নীতির কারণে সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রাষ্ট্র এবং জনগণ। আর অন্যদিকে লাভবান হচ্ছে দুর্নীতিবাজরা। এ রকম একজন প্রকৌশলীর নাম ফজলে রাব্বী। যিনি বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) বরিশালের বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে চাকুরী করছেন। ফজলে রাব্বী চুয়াডাঙ্গা জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর গ্রামের হাজী আলিয়ার হোসেনের ছেলে। তিনি সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদানের কিছুদিন পর থেকেই যেন আলাউদ্দিনের চেরাগ পেয়ে যান। অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে মাত্র কয়েক বছরে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড। হয়েছেন একাধিক বাড়ি-গাড়ি, প্লট ও মিল কারখানার মালিক। ফজলে রাব্বীর ব্যাংক একাউন্টে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন, মানিলন্ডারিং ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ সহ জ্ঞাত আয় বর্হিভুত সম্পদ অর্জন করেছেন। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও টেন্ডার বাণিজ্য করে হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)তদন্ত করছে।

সম্প্রতি অবসরে যাওয়া এক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী’র ব্যাংক হিসাবে অর্ধকোটি টাকা জমা পড়া নিয়ে আলোচনায় আসেন ফজলে রাব্বী । শুরু হয় তোলপাড়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুসন্ধান বেরিয়ে আসে, এই টাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) বরিশালের বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফজলে রাব্বির। তার অবৈধ পথে অর্জিত অর্থের ৪৫ লাখ টাকা তিনি ফারহান আফরোজের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড নিউ ইস্কাটন শাখার হিসাব নাম্বার ০৯৪ ৩২০৯০০০০০০১৮ সে ডিপোজিট করেছে। যা কাস্টমার আইডি নং ০৯৪০০২৪৯০। বিষয়টি জেনে যাওয়ায়, সংসারে চরম অশান্তির এক পর্যায়ে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক (সাবেক স্বামী) কর্মকর্তার স্ত্রী’কে প্রলুব্ধ করে নিয়ে আসেন ফজলে রাব্বি। দুই সন্তান প্রতিনিয়ত মা’কে ফিরে আসার জন্য অনুরোধ করছে বলে পারিবারিক সুত্রে জানা যায়। তার ফিরে আসা নিয়ে শঙ্কিত পরিবার। ভুক্তভোগি পরিবারের এক নিকটাত্মীয় জানান, ফজলে রাব্বির বিষয়ে যতটুকু জেনেছি একাধিক নারীর সঙ্গ তার অনেক আগের স্বভাব।অবৈধ টাকার জোরে ইতোপুর্বে অনেক সংসারে অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কঠোর শান্তি গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে অনেক সন্তান এতিম হবে।
জানাগেছে, ফজলে রাব্বী উপ-বিভাগীয় ও নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে চাকরিকালীন তিনি দুর্নীতির আখড়া গড়ে তোলেন প্রতিটি কর্মস্থলে। তিনি বরিশাল থাকাকালে তার আমলে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে ঘুষ নিয়ে ঠিকাদারকে কাজের বরাদ্দ দিয়েছেন। এসব প্রকল্পের কাজে ৪০% ও সঠিক হয়নি। গত জুন ক্লোজিং এর শেষের দিকে তিনি কাজ না করেই অনেক প্রকল্পের টাকা তুলেছেন বলে অভিযোগ সুত্রে জানা যায়। এভাবেই সে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

চুয়াডাঙ্গার আলফাডাঙ্গায় ফজলে রাব্বী একটি সাবান তৈরীর কারখানা স্থাপন করেছেন, যেখানে তার আত্মীয়-স্বজনরা কাজ করে। স্ত্রী ও তার নামে ৮০ কোটি টাকার পাওয়ার প্লান্ট শেয়ার ক্রয় করেছেন। তার ব্যক্তিগত ১০-১২ টি গাড়ি আছে। রাজধানীর উত্তরাতে সে একটি জলসাঘর বানিয়েছেন, সেখানেই চাইনিজ কোম্পানির সাথে তার ব্যক্তিগত পাওয়ার প্লান্ট ব্যবসার জন্য তাদেরকে বিভিন্ন অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকেন। ফজলে রাব্বী আপাদমস্তক একজন অসৎ মানুষ, চাকরির শুরু থেকেই তিনি দুর্নীতি করে অবৈধ উপায়ে কোটি কোটি টাকা আয় করেন। টাকা পয়সা দিয়ে সুন্দরী মেয়েদের ব্যাংক একাউন্টে ডিপোজিট করে মূল্যবান স্বর্ণ অলংকার ডায়মন্ড সেট মোবাইল সেট দিয়ে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে তাদের সাথে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করে থাকে।

ফজলে রাব্বীর স্ত্রী একজন গৃহিণী হলো তার নামে আছে অঢেল সম্পদ। তার সন্তানের নামে ব্যাংকে আছে কোটি টাকার এফডিআর। প্লট – ১৬ ও ২৭, রোড নং ২৭, বনানী ঢাকাতে পাঁচ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করেছেন। র্বতমানে তিনি বনানীয় ৪ নং সড়কের এ ব্লকের ১৪১ নং বাড়ির ৪ তলায় থাকেন বলে জানা যায়।

সূত্রে জানা যায়, ফজলে রাব্বী অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের বিপুল পরিমান টাকা মানিলন্ডারিং করে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের গড়েছেন অবৈধ সম্পদ। তার এবং তার স্ত্রীর নামে অগ্রণী ব্যাংক এবং ব্র্যাক ব্যাংক সহ বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পর্যালোচনা করলে জানা যাবে অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য। তার এবং তার স্ত্রীর নামে শেয়ারবাজারে রয়েছে, কয়েক শত কোটি টাকার। তাছাড়াও উত্তরা ধানমন্ডি ও পল্লবী তে তার কয়েকটি ফ্ল্যাট আছে। চুয়াডাঙ্গায় ১০০ বিঘা, গাজীপুরে ১৫ বিঘা ও পূর্বাঞ্চলে ১২ বিঘা জমি রয়েছে। এসকল করেছেন অল্পদিনেই। মূলত অবৈধপথে অর্জিত টাকা সে ভোগ বিলাসে ব্যয় করেন। এত টাকা কোথা থেকে সে পায় তা তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে।

এদিকে, ফজলে রাব্বী বরিশালে যাওয়ার আগে গাজীপুরে নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন। ২০১০-১১ এবং ২০১১-১২ অর্থবছরে জয়দেবপুর-মির্জাপুর-টাঙ্গাইল-জামালপুর সড়কে প্রায় এক কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মেরামতকাজ করান। মান বজায় রেখে কাজ করা হয়নি- এ অভিযোগ উঠলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ফজলে রাব্বিকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দেয়। সে সময় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। সেই মামলা থেকে তিনি দায়মুক্ত হন বলে সওজ কর্তৃপক্ষ জানায়। এবিষয়ে ফজলে রাব্বির সাথে তার বরিশিাল কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর ফোন কেটে দেওয়া হয়।

অন্যান্য খবর

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com