শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:০৯ পূর্বাহ্ন

একাডেমিক কাউন্সিল এবং সিন্ডিকেট ছাড়াই বুটেক্সে ভর্তি পরীক্ষা

একাডেমিক কাউন্সিল এবং সিন্ডিকেট ছাড়াই বুটেক্সে ভর্তি পরীক্ষা

এম এ রকি :

একাডেমিক কাউন্সিল এবং সিন্ডিকেটের কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্বিবিদ্যালয়ের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের স্মাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। বিশ্বিবিদ্যালয়ের উপাচার্য একক ক্ষমতা বলে সবকিছুকে পাশ কাটিয়ে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্বিবিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার যে নীতিমালা তার ৪.৪ অনুচ্ছেদে স্পস্ট বলা আছে, ভর্তি কমিটির সুপারিশকৃত ভর্তি নীতিমালা একাডেমিক কাউন্সিল দ্বারা অনুমোদিত হতে হবে। সবসময় এই নিয়মে অনুস্মরণ করা হলেও এবার তার ব্যতিক্রম করেছেন ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ও বিশ্বিবিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোঃ আবুল কাশেম। বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্বিবিদ্যালয়ের আইন ২০১০ এর ৩৮ এর ৫ উপধারায় বলা আছে, ভর্তি সময় প্রদত্ত মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে কোনো শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হইলে এবং পরবর্তী সময় উহা প্রমাণিত হইলে উক্ত শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিলযোগ্য হইবে। ফলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

মূলত মৌলিক কিছু পরিবর্তন একাডেমিক কাউন্সিলে আটকে যেতে পারে এই ভয়ে তিনি কাউন্সিল এবং সিন্ডিকেটকে পাশ কাটিয়ে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত করেছেন বলে সংশ্লিস্টদের ধারনা।
এমনকি স্মাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নেও নিয়মের বাইরে গিয়ে কাজ করেছেন টেক্সটাইল বিশ্বিবিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোঃ আবুল কাশেম। বিশ্বিবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার বছর ২০১০ সাল থেকে শুরু করে প্রতিটি ভর্তি পরীক্ষার মডারেশনে মৌলিক বিজ্ঞান (পদার্থ, রসায়ন, গণিত) ও ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানদের রাখা হলেও এবার শুধু গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ছাড়া অন্য কোনো বিভাগের বিভাগীয় প্রধানদের সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছেন বিশ্বিবিদ্যালয়ের উপাচার্য।
বিষয়টি নিয়ে বিশ্বিবিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের একাধিক সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিশ্বিবিদ্যালয়ের সর্বশেষ একাডেমিক কাউন্সিল হয়েছিল ৩০/০৭/২০১৯ তারিখে। সেই কাউন্সিলের কার্যপত্রের কোথায় ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত কোনো বিষয়ের অনুমোদনের বিষয়ে উল্লেখ নেই। তারপর এখন পর্যন্ত আর কোনো একাডেমিক কাউন্সিলের সভা ডাকেননি উপাচার্য।
বিষয়টি নিয়ে বিশ্বিবিদ্যালয়ের উপাচার্যের সাথে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে বিষয়টি নিয়ে রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক মোঃ মনিরুল ইসলামের বক্তব্য হলো, সব ধরনের অনুমতি নিয়েই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যারা তথ্য দিয়ে তারা সঠিক তথ্য দেয়নি। তিনি জানান, ২৪ জুলাই বিশ^বিদ্যালয়ের ডীন এবং বিভাগীয় প্রধানদের সভায় পরীক্ষার কমিটির বিষয় আলোচনা হয় এবং তা পরবর্তীতে ৩০ জুলাইয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের ৪৯তম সভায় অনুমোদন করা হয়।
কিন্তু অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৩০ জুলাই বিশ্বিবিদ্যালয়ের ৪৯ তম একাডেমিক কাউন্সিলের কার্যপত্রের প্রস্তাব নং এসি-১৯০১৬ঃ সিদ্ধান্ত ৫ এ বলা হয়েছে, ‘বি.এসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামের ২০১৯-২০২০ সেশনের ভর্তি কমিটি ডীন ও বিভাগীয় প্রধানগণের কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সমন্বয় গঠন করার সিদ্ধান্ত হয় যা পরবর্তী একাডেমিক কাউন্সিল সভায় অনুমোদন করা হবে।
বুধবার বিষয়টি নিয়ে বিশ্বিবিদ্যালয়ের উপাচার্যের সাথে জানতে গেলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে জানান উপাচার্যের পিএস’এর দায়িত্বে থাকা সেকশন অফিসার বিল্লাল জানান, আগামী ২ ডিসেম্বর এই বিষয়ে একাডেমিক কাউন্সিলে বিষয়টির ভুতাপেক্ষ অনুমোদন করা হবে। যারা আপনাদের তথ্য দিয়েছেন তারা উপাচার্যের ইমেজ নস্ট করার জন্য এই তথ্য দিয়েছেন।
বিশ্বিবিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের বহিসদস্যদের অভিযোগ এভাবে সবাইকে পাশ কাটিয়ে উপাচার্য একা ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে আইন লঙ্ঘন করেছেন।
একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যদের সন্দেহ বিশ্বিবিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করতেই উপাচার্য এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছেন।
উল্লেখ্য এ বছর বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্বিবিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ৮ হাজার ২শ ৩ জন পরীক্ষার্থী। তেজগাঁওয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাস ছাড়াও রাজধানীর আরো তিনটি কেন্দ্রে শুক্রবার একযোগে এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

অন্যান্য খবর

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com