"> ময়মনসিংহ সদরে গরু চুরির হিড়িক - Dailyajkersangbad ময়মনসিংহ সদরে গরু চুরির হিড়িক – Dailyajkersangbad

শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২০, ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন

ময়মনসিংহ সদরে গরু চুরির হিড়িক

ময়মনসিংহ থেকে ফিরে আবুল হোসেন :

বহুদিন পর ময়মনসিংহ সদরে কোতোয়ালী মডেল থানা এলাকায় ইদানিং গরু চুরির হিড়িক পড়েছে। গত দেড় মাসে গরু চুরির উপদ্রব ব্যাপক ভাবে বেড়েছে। থানায় মাত্র দুটি মামলা হয়েছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন চোরাই গরু উদ্ধার হয়নি বলে বাদীরা জানিয়েছে। একরাতে একাধিক বাড়িতে গরু চুরির ঘটনা ঘটলেও পুলিশ একাধিক মামলা না নিয়ে একটি করে মামলা নিয়েছে।

কৃষকের গোয়ালঘর থেকে প্রায় প্রতিরাতে অভিনব কৌশলে গরু চুরি হচ্ছে। এতে দীর্ঘদিন পর এলাকাবাসীর মধ্যে গরু চুরির আতংক দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেও কৃষকরা ধরতে পারছে না সক্রিয় এই গরু চোরদের। তারা জানিয়েছেন, পুলিশে অভিযোগ করে কোন প্রতিকার পাচ্ছে না সংশ্লিষ্টরা। অনেকে পুলিশী হয়রানির কারনে মামলা করতে যাচ্ছে না। এদিকে পুলিশ গরু চুরির মামলার সুষ্টু তদন্তের ও চোরাই গরু উদ্ধারের জন্য ৫ হাজতীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চেয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে আন্তঃজেলা গরুচোর-চক্র ময়মনসিংহ সদরে তৎপরতা চালাচ্ছে কিনা?

সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ সদর কোতোয়ালী থানা এলাকায় গত ৪৬ দিনে ২টি গ্রামে ৬টি পরিবারের ১৩টি গরু চুরি’র ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় মাত্র ২টি মামলা রুজু হয়েছে। প্রতিটি ঘটনায় দেখা যায়, দরজা কিংবা তালা ভেঙ্গে চোর গোয়ালঘরে প্রবেশ করে গরু চুরি করে নিয়ে যায়। চুরি যাওয়া ১৩টি গরুর মূল্য সাড়ে ৯ লাখ টাকা। জানা যায়, মামলার অভিযোগ পত্র থানায় লেখা হয়েছে। দুইটি মামলার প্রতিটিতে রাত ১২ টার ৫মিনিট আগে থেকে পরবর্তী রাত সাড়ে ৩ টার মধ্যে গরু চুরির ঘটনা ঘটে বলে উল্লেখ করা হয়। দুটি মামলার একটিতে বাদীসহ ৩ জনের ৫টি গরু ও অপর মামলায় বাদীসহ ৩ জনের ৮ টি গরু চুরি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা নং ৪৩(২)২০২০ ইং ধারা-৪৫৭,৩৮০,৫০৬ পেনাল কোড ১৮৬০, থেকে জানা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারী রাতে উজান ঘাগড়া গ্রামের বাদী মাজাহারুল ইসলাম প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হন। এসময় রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে তিনি তার গোয়ালঘরে ৩টি গরু দেখতে পান। তিনি জানান, গরুগুলো রাত সাড়ে ৩ টার দিকে চুরি হয়েছে।

অজ্ঞাতনামা চোর-চক্র গোয়ালঘরের তালা ভেঙ্গে ও বাদীর ঘরের দরজার বাহিরের ছিটকিনি লাগিয়ে গরু চুরি করে। ঘটনা টের পেয়ে বাদী ডাক চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা দরজা খুলে দেয়। এ সময় গরু ভর্তি ট্রাকটি আটক করতে চাইলে চোরেরা গুলি করার হুমকী দেয়। বাদী জানান, ওই একই রাতে উজান ঘাগড়া গ্রামের তার ৩টি, তার চাচা শহিদুল ইসলামের ১টি ও চাচাতো ভাই আজিজুল হকের ১টিসহ মোট ৫টি গরু চুরি হলেও পুলিশ একত্রে একটি মামলা নিয়েছে। মামলার তদন্তকারি অফিসার এসআই আনিসুর রহমান জানান, এখনো কাউকে আটক করা যায়নি ও কোন চোরাই গরু উদ্ধার হয়নি। কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা নং ১১৮(১২)২০১৯ ইং ধারা- ৪৫৭/৩৮০ থেকে জানা যায়, গত ২৮ ডিসেম্বর মোদারপুর গ্রামের বাদী আতিকুর রহমান আকন্দও পূর্বোক্ত মামলার বাদীর মত রাত ১১টা ৫০ মিনিটে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে গোয়ালঘরে ৪ টি গরু দেখতে পান। কিন্তু সেই রাতে তার ৪টি গরু ছাড়াও চাচাতো ভাই সাইফুল ইসলাম টুটুলের ২টি গরু এবং চাচা তোফাজ্জল হোসেনের ২টি গরু চোরেরা নিয়ে যায়।

মোদারপুর গ্রামে একরাতে পৃথক তিন বাড়িতে গরু চুরির ঘটনা ঘটলেও কোতোয়ালী থানায় একটি মাত্র (১১৮ নং) মামলা হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন গরু উদ্ধার হয়নি। মামলার তদন্তকারি অফিসার এসআই পলাশ কুমার রায় অন্য মামলায় ময়মনসিংহ জেল হাজতে থাকা গৌরীপুর, জয়দেবপুর, কাপাসিয়া থানার ৪ জন ও নেত্রকোনা জেল হাজতে থাকা আটপাড়ার থানার ১ জনসহ মোট ৫ আসামীর রিমান্ডের জন্য আবেদন করেছেন। পুলিশের মতে, এরা গরু চুরির ঘটনায় জড়িত বলে সন্দেহ রয়েছে। এক্ষেত্রে আন্তঃজেলা গরু চোর-চক্র ময়মনসিংহে সক্রিয় তৎপরতা চালাচ্ছে কিনা সে প্রশ্ন উঠেছে।

উল্লেখ্য প্রায় ২০ বছর আগে ময়মনসিংহ জেলায় সংঘবদ্ধ গরু চোর সিন্ডিকেট ভয়াবহ মাত্রায় তৎপর ছিল। অতপর পুলিশী তৎপরতায় ময়মনসিংহ জেলায় গরু চুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ইদানিং ময়মনসিংহ সদরে ফের গরু চুরি শুরু হয়েছে। যা উদ্বেগজনক। সম্প্রতি ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় গরু চুরি মারাতœক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চরাঞ্চলের ৭টি ইউনিয়নে চোরের উপদ্রব বেড়েছে। কৃষকরা সতর্ক হয়ে রাত জেগে গোয়ালঘর পাহাড়া দিতে শুরু করেছে বলে সূত্রগুলো জানায়।

অন্যান্য খবর

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com