বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন

ঢাকা কাস্টমস হাউজ লুটেপুটে খাচ্ছে ডিসি সানোয়ার ও সাদেক ॥ দেখার কেউ নেই

বিশেষ প্রতিবেদক:
  • প্রকাশিত সময় : বুধবার, ৬ অক্টোবর, ২০২১
  • ৫৭৭ পাঠক পড়েছে

দুই উপ-কমিশনার একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে লুটেপুটে খাচ্ছে ঢাকা কাস্টমস হাউজ। অলিখিত এই সিন্ডিকেটের প্রধান হলেন উপ-কমিশনার মো. সানোয়ারুল কবির এবং মো. আব্দুস সাদেক। তারা তাদের পছন্দনীয় সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাদের মাধ্যমে চোরাই পণ্য খালাসের মাধ্যমে এক দিকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন অপরদিকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকে। অবৈধ আয়ের মাধ্যমে উপ-কমিশনার সানোয়ারুল কবির অস্ট্রেলিয়ার বাড়ি কেনা ছাড়াও ঢাকায় রয়েছে নামে বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট। অপরদিকে আব্দুস সাদেক ও গড়ে তুলেছেন ফ্ল্যাট, বাড়িসহ বিত্তবৈভব। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানা যায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দুইজন সদস্যকে ম্যানেজ করে ওই দুই উপ-কমিশনার দীর্ঘ দুই বছর ধরে ঢাকা কাস্টমস হাউজে পদায়ন নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির মুল্লুকে পরিণত করেছেন। এই দুই সদস্যের একজন আগামী ১৫ নভেম্বর ২১ এবং ০৫ জানুয়ারী ২০২২ তারিখে পিআরএল এ যাওয়ার কথা রয়েছে। ঢাকা কাস্টম হাউজের মধ্যে প্রিভেনটিভ বিভাগ ও এয়ার ফ্রেইট ইউনিট হলো রাজস্ব আদায়ের বড় সেকশন। তাদের অধীনে ২৬ জন রাজস্ব কর্মকর্তা ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা রয়েছেন। কিন্তু এই দুই উপ-কমিশনার ২৬ জনের কাজ শুধুমাত্র ৬জন কর্মকর্তাকে দিয়ে পণ্য খালাসের কাজ করাচ্ছেন। এই ছয় জনের মধ্যে একজন হলো মো. সানোয়ারুল কবিরের চাচাত ভাই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মি: নূঈদ মাহমুদ এবং আপন ভগ্নিপতি তাবাস্সুম মুরাদ অপু। অবশিষ্ট চারজন দুই উপ-কমিশনারের দুর্নীতির বিশ্বস্থ সহযোগী সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) মোহাম্মদ সোহেল, মো. আমিনুল হক, মলিনা পারভীন ও মিলন মধু।

তাদের সিন্ডিকেট আরো শক্তিশালী করতে গত ৫ অক্টোবর সানোয়ারুল কবির তার ভগ্নিপতি তাবাস্সুম মুরাদ অপুসহ অভ্যন্তরীণ বদলির মাধ্যমে এআরও মো. নূরে আলম সিদ্দিকী, মো. তরিকুল ইসলামকে এয়ারফ্রেইট ইউনিটে পদায়ন করেন। অন্যসব কর্মকর্তা পণ্য খালাসের কাগজপত্র না পেয়ে বাসা থেকে অফিসে যাচ্ছেন বসে থেকে বাসায় ফিরছেন। তারা কাজ না পেলেও প্রতিবাদ করার ক্ষমতা নেই। প্রািতবাদ করলেই তাদের ঢাকা কাস্টমস হাউজ থেকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায়কারী সহকারী কমিশনার মো. সোলায়মানকে তারা সাজানো অভিযোগের ভিত্তিতে সিলেট কমিশনারেট এ বদলি করেন। এতে করে ঢাকা কাস্টম হাউজের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ছয় কর্মকর্তাকে আরো ২০ জনের কাজ করতে গিয়ে হিমশিম খেলেও তারা আনন্দেই অফিস সময়ের বাইরেও ডিউটি করতে কোন আপত্তি করছেন না। কারন, এতে মধু আছে। সূত্র জানায়, অবৈধ পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে দুই কমিশনারের নির্দেশে ওই ছয় কর্মকর্তাই কাজ করে যাচ্ছে। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আমদানী করা জীবন বিনাশী যৌন উত্তেজক ওষুধসহ নানা ধরণের অবৈধপণ্য আমদানীতে সহযোগিতার মাধ্যমে এই সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। এদিকে অবৈধ পন্থায় আয় করা টাকা বিদেশে পাচার করছে সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। ওই সব সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান পণ্য খালাসের মাধ্যমে একে অপরের অবৈধ কর্মকান্ড ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা পাচার করছে।

এদিকে আরেক সূত্রের অভিযোগ থেকে জানা যায়, উপ-কমিশনার মো. সানোয়ারুল কবির ও আব্দুস সাদেক যৌথভাবে টিভি প্যানেল আমদানীর ব্যবসা শুরু করেছে। মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে এসব টিভি প্যানেল ও অবৈধপণ্য ছাড়িয়ে নিচ্ছে তার ঘনিষ্ট সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিএন্ডএফ একাধিক স্বত্ত্বাধিকারী অভিযোগ করেন, সম্প্রতি এই দুই উপ-কমিশনার ব্যবসা থেকে শুরু করে যেভাবে রাষ্ট্রের রাজেস্বের টাকা লুটপাট করছে তাতে সৎ সিএন্ডএফ এজেন্টদের ঢাকা কাস্টমস হাউজে কাজ করার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এদিকে প্রিভেনটিভ ইউনিটের ডিসি মো. সানোয়ারুল কবিরের সাথে অভিযোগ সম্পর্কে টেলিফোনে কথা বললে তিনি আজকের সংবাদকে বলেন, আমার ভগ্নিপতি কে ? তাবাসসুম মুরাদ অপুর কথা বললে তিনি জবাবে বলেন, সে তো এয়ারফ্রেইট বিভাগে কর্মরত। এই বিভাগ আমি দেখি না। এয়ারফ্রেইট এর ডিসি আব্দুস সাদেক সাহেবের সাথে আপনি সিন্ডিকেট করে এসব করছেন এমন অভিযোগের সম্পর্কে আরো জেনে নিতে বলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার বাড়ি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি খোঁজ নিতে বলেন আজকের সংবাদকে। এ অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে জনাব আব্দুস সাদেক বারবারই তার সেল ফোন কেটে দেন।

নিউজটি শেয়ার করে আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
© All rights reserved © 2019-2020 । দৈনিক আজকের সংবাদ
Design and Developed by ThemesBazar.Com
SheraWeb.Com_2580