শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন

বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নানা হয়রানীর নেপথ্যে ঘুষ বানিজ্য

যশোর প্রতিনিধিঃ
  • প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ৮ মার্চ, ২০২২
  • ৪৭ পাঠক পড়েছে

ফুঁসে রয়েছেন বিভিন্ন বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠন
বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নানা হয়রানীর নেপথ্যে ঘুষ বানিজ্য

দেশের বৃহত্তম স্থল বন্দর বেনাপোল বন্দর এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ কাস্টমস হাউসের অন্যতম শাখা বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়ত ব্যবসায়িক হয়রানী বৃদ্ধিতে ফুঁসে ওঠেছে বন্দর ব্যাবহারকারী ৪টি সংগঠন। আর এর নেপথ্যে রয়েছে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তাদের সীমাহীন ঘুস বানিজ্য। দুই দিনের কর্মবিরতি শেষে রবিবার হতে আমদানি-রপ্তানী শুরু হলেও চুড়ান্ত সুরাহ পাইনী আন্দোলনরতরা।

আগামী সোমবার (১৪ইমার্চ) পুনরায় বন্দর ব্যাবহারকারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিবে পরবর্তী কার্যক্রমের বলে জানিয়েছেন বেনাপোল সি এন্ড এফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশানের সভাপতি মুজিবর রহমান। তিনি আরো জানান,আমাদের দুই জন সদস্য এর নামে অন্যায় ভাবে মামলা দিয়েছে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। আমরা গত রবিবার (৬ মার্চ)সকালে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সহিত আলোচনায় বসি,সেখানে আমরা ২০টি যৌক্তিক প্রস্তাবনা দিয়েছি।কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কয়েকটি প্রস্তাবনা মেনে ১সপ্তাহের মধ্যে তা সমাধান দেওয়ার আশস দিলে আমরা আন্দোলন সাময়িক স্থগিত করেছি ফলে বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানী কার্যক্রম সচল হয়েছে। আন্দোলন কালীন সময়ে গনমাধ্যম কর্মীদের সহযোগীতায় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষন করে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষের অনিয়ম-দূর্নিতীর বিষয়ে হস্তক্ষেপ চাওয়া সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক শাকিল আহমেদ জানান,কাস্টমস কর্তৃপক্ষের অনিয়মের প্রতিবাদ করলেই আমাদের উপর হয়রানীর মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেই। এতে করে আন্দোলন নিষ্ফল হয়ে পড়ে কেননা মালিক পক্ষকে কাস্টমস কর্মকর্তারা জিম্মি করে ফেলে অবশেষে আমাদের কিছুটা ছাড় দিতে হয়।

অনিয়ম, হয়রানী ও ঘুস বানিজ্য প্রশ্নে তিনি জানান,কাস্টমসের মধ্যে প্রত্যেক অফিসার অনিয়ম করে ঘুস কালেকশনের জন্য ব্যাক্তিগত লোক রেখে দিয়েছে। এরাই এনজিও নামে পরিচিত আর অফিসারদের কথা মতই তারা আমাদের উপর ঘুসের টাকা দাবী করে না হলে পন্য ছাড় করানো কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে। গোপনীয়তা শর্তে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের একটি সুত্র থেকে জানা যায়,এনজিও বা বহিরাগত লোক প্রবেশের কোন সুযোগ নেই। তাহার যে পক্রিয়ায় সরকারী একটি গুরুত্ব পূর্ন প্রতিষ্ঠানে রয়েছে তা সম্পূর্ন বিধি বর্হিভূত ও বে আইনী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় প্রায় শত খানি এনজিও প্রত্যাহ বেনাপোল কাস্টমস হাউসে প্রবেশ করেন। কাস্টমসে কর্মরতদের অভিযোগ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের যুগ্ন কমিশনার আব্দুর রীশদ মিয়ার নিকট মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি কমিশনার মহোদয় বলতে পারবে।কার্যক্রম বা অন্য বিষয়ে জানতে চাইলে আমি বলবো। বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার আজিজুর রহমানের নিকট জানতে একাধিক বার কল করেও সংযোগ না মেলায় বিবৃতি জানা সম্ভব হয়নী।

উল্লেখ্য গত ২মার্চ ভারত হতে বন্ড লাইসেন্স (শুল্কমুক্ত) সুবিধায় আনা আমদানিকৃত ডেনিম ফেব্রিক্স পন্য চালানের সাথে বিশেষ ভাবে লুকিয়ে আনা আনুমানিক অর্ধকোটি টাকা মূল্যের শাড়ি,থ্রীপিচ,বাংলা মদ,ফেন্সিডিল,বিদেশী সিগারেট,কারেন্ট জাল,ঔষধ ও বিভিন্ন প্রকার ভারতীয় পন্য আটক করে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় গত বুধবার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ঢাকাস্থ অনন্ত ডেনিম টেকনোলজি লিমিটেড ও ফ্যাশান ফোরাম লিমিটেড এর পক্ষের মনোনীত সি এন্ড এফ এজেন্ট শিমুল ট্রেডিং এজেন্সি ও আইডিএস গ্রুপ নামের ২টি সি এন্ড এফ এজেন্ট লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করে ঐ ২টি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের নামে বেনাপোল পোর্টথানায় মামলা দ্বায়ের করেন বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। অন্যায় ভাবে সি এন্ড এফ এজেন্ট কর্মচারীদের নামে মামলা দেওয়ার প্রতিবাদ জানাতে সরব হয় বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠন গুলো। তাদের কর্মবিরতির মুখে ২দিন বেনাপোল স্থল বন্দরের আমদানি-রপ্তানী ও কাস্টমসের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে।

নিউজটি শেয়ার করে আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
© All rights reserved © 2019-2020 । দৈনিক আজকের সংবাদ
Design and Developed by ThemesBazar.Com
SheraWeb.Com_2580