মুজিবনগর সাব-রেজিস্ট্রার আমজাদ হোসেন ও নকল নবিশ পারুল এর ঘুষ-বাণিজ্য অত্যচারে দিশেহারা কালামপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে। সেখানকার সেবা নিতে আসা দাতা-গ্রহিতারা। এছাড়াও তারা দুর্নীতির আখরা পরিণত করেছেন কালামপুর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসকে বলে সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সুত্রে অভিযোগ রয়েছে। অন্যের সাব-কবলা জমি ও ভুয়া দলিল করে দিতেও পিছপা হননা সাব-রেজিস্ট্রার আমজাদ হোসেন। টাকা পেলে সব কিছু করতে পারেন তিনি কারন দ্রুত সময়ের মধ্যেই অবসরে চলে যাবেন যে কারনে টাকার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন সাব-রেজিস্ট্রার আমজাদ তিনি।
কালামপুর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে রাজস্ব লুট করতে গড়ে তুলেছেন একটি অসাধু সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা সাব-রেজিস্ট্রার আমজাদ হোসেনও নকল নবিশ পারুল ও তাদের অনুসারী কিছু দলিল লেখকরা। তারা নাল জমিকে ডোবা ও নালা, দেখিয়ে দলিল সম্পাদন করেন, এতে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হলেও কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন সাব-রেজিস্ট্রার ও তার সহকারী নকল নবিশ পারুল ও অসাধু কিছু দলিল লেখকরা।
রাজস্ব ফাকির দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ঐ চক্রটি। এছাড়া মুজিবনগর সাব-রেজিস্ট্রার আমজাদ হোসেন এর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত করেছে বিগত সময় দুদক। কিন্তু অদৃশ্য কারনে সাব-রেজিষ্ট্রার আমজাদ হোসেন তার অবৈধ অর্থের দাপটে সেই সকল অভিযোগগুলো ধামাচাপা দিতে সক্ষম হন। কালামপুর সাব-রেজিষ্ট্রারঅফিসে আতংকের নাম ক্ষমতার দাপট ও হয়রানী। এমনি ক্ষমতার দাপটের প্রতিফলনে মারামারীতে রূপ নিয়েছে বিগত সময়। নকল নবিশ পারুলের নেতৃত্বে এভাবে রামরাজ্যত্ব কায়েম করে চলেছেন মুজিবনগর সাব-রেজিষ্ট্রার আমজাদ হোসেন।
সাধারণ দলিল লেখকরা তার কাছে অসহায়। নকল নবিশ এর চাকরির সুবাদে কালামপুর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে ভাগ্যের চাকা বদলে যায় পারুলের। কয়েক বছরের মধ্যই কোটিপতি বনে যান নকল নবিশ পারুল। কামালপুর সদরে রয়েছে তার ৩টি ইটের ভাটা। যার বর্তমান বাজার মূল্য ২২ থেকে ২৫ কোটি টাকা, এছাড়া কালামপুর এলাকায় কয়েক এককর জমি ক্রয় করেছেন তার স্বামী-সন্তানদের নামে। যা মন্ত্রণালয় কিংবা দুদক তদন্ত করলে তার অবৈধ সম্পদেরখোজ মিলবে। কয়েক বছরের মধ্যেই সামান্য দলিলের কমিশন, বেতনভুক্ত নকল নবিশ পারুল কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেছেন। বর্তমানে তার স্বামীর শরীরে ৮টি ব্লক ধরা পড়াতেই তাকে ওপেন হার্টসার্জারি করার জন্য প্রকাশ্যে দলিল লেখকদের কাছ থেকে দলিল প্রতি ৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ গ্রহণ করেছেন দলিল এর দাতা-গ্রহিতাদের সকল কাগজপত্র ঠিক থাকার পরেও।
দলিল লেখকদের কাছে বলে বেড়ান তার স্বামীর অপারেশনের জন্য অনেক টাকা প্রয়োজন। যে কারনে সাব-রেজিষ্ট্রারের যোগসাজসেই ছত্র ছায়ায় এ ধরনের ঘুষের কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক দলিল লেখকগণ জানান। গত সপ্তাহে কামালপুর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে গিয়ে দেখা যায় সাব-রেজিষ্ট্রার তার খাস কামরায় বসে দলিল দাতা-গ্রহিতাদের সাথে ঘুষ লেনদেনের ব্যস্ত সময় পার করছেন সাব-রেজিষ্ট্রার ও নকল নবিশ পারুল। মুজিবনগর সাব-রেজিষ্ট্রার আমজাদ হোসেন সাব-রেজিষ্ট্রার পদে চাকরির সুবাদে কযেকটি টাকার মালিক বনে গেছেন।
রাজধানী শ্যামলীতে দেড় কোটি টাকা দিয়ে তার স্ত্রীর নামে একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। এছাড়াও নামে-বেনামে কয়েকটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক তিনি। দূর্নীতি দমন কমিশন দুদক তার সম্পদের বিবরণী যাচাই করলে ঐ সকল অবৈধ সম্পদের খোজ মিলবে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। কালামপুর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে একজন কর্মচারী জানান স্যার প্রতিদিন অফিস শেষে যখন বাসার উদ্দেশ্যে বের হন, তখন স্যারের পকেট এবং শরীর চেক করলে লক্ষ লক্ষ টাকা পাওয়া যাবে তার কাছে। উল্লেখিত অভিযোগের বিষয়ে সাব-রেজিষ্ট্রার আমজাদের মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে শ্রেণি পরির্বতন এবং দলিল প্রতি ৫ থেকে ৫০ হাজার, দলিল প্রকার ভেদে মোটা অংকের টাকা ঘুষের বিষয়ে অস্বীকার করে এবং নকল নবিশ পারুলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি শুনেছি পারুলের ৩টি ইটের ভাটা রয়েছে,অন্যান্য সম্পদের বিষয়ে আমি অবগত নই। ঢাকা জেলা রেজিষ্ট্রার সাবিকুন্নাহার তার মুঠো ফোনে কালামপুর সাব-রেজিষ্ট্রার এর ঘুষ বাণিজ্যর বিষয়ে জানার জন্য ফোন দিলে ফোন বন্ধ পাওয়ায় তার মতামত পাওয়া সম্ভব হয়নি।