বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০৮:১৮ অপরাহ্ন

কক্সবাজার বিমান বন্দর সম্প্রসারণ কাজের সামগ্রী ব্যবহার হচ্ছে কউক’র কাজে!

জাফর আলম, কক্সবাজারঃ
  • প্রকাশিত সময় : রবিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২১
  • ৭৪ পাঠক পড়েছে

ভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ভিন্ন বাজেট। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান একই হওয়ায় কক্সবাজার বিমান বন্দর সম্প্রসারণ কাজের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। এনডিই নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বিমান বন্দরে রানওয়ে সম্প্রসারণ কাজে ব্যবহারের জন্য মজুদককৃত বালি ও মাটিসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী প্রতিনিয়ত বাহিরের কাজে নিয়ে যাচ্ছে।

কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষের অধীনে সড়ক সংস্কারসহ উন্নয়ন কাজে বেসামরিক বিমান চলাচল কতৃপক্ষের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা দুটো প্রতিষ্ঠানের কাজ চলছে ধীরগতিতে। এতে বেড়েই চলেছে জনদূর্ভোগ। আর প্রতিনিয়ত নির্মাণ সামগ্রী বাইরে সরবরাহ দেয়ায় নিরাপত্তা বেষ্টনীতে থাকা বিমান বন্দরও অরক্ষিত হয়ে পড়েছে।জানা গেছে, বেসামরিক বিমান চলাচল কতৃপক্ষের আওতাধীন কক্সবাজার বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক টার্মিনাল স্থাপন, ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলমান। বিমান বন্দর সম্প্রসারণ কাজের জন্য মাটি,বালিসহ নির্মাণ সামগ্রী মজুদ করা হয়েছিল বিমান বন্দর রানওয়ে অভ্যন্তরে। নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে রাখা নির্মাণ সামগ্রী দিনে ও রাতে সমানতালে বাহিরে পাচার করছে এনডিই নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
ফলে বিমান বন্দর সম্প্রসারণ কাজে ধীরগতি চলছে। এ কারণে সব মহলে ক্ষোভের শেষ নেই।
এদিকে, একই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষের অধীনে পর্যটন শহরে সড়ক সংস্কার, ব্যীজ, কালভাট, ড্রেন নির্মাণ, পানি সরবরাহ লাইন সম্প্রসারণও বাস্তবায়ন করছে। বিমান বন্দরের সমস্ত কাজের সাইড অফিস করেছে বিমানবন্দর অভ্যন্তরে। এছাড়াও বিমানবন্দরের রানওয়ের জায়গায় সমস্ত নির্মাণ সামগ্রী মজুদ ও যানবাহনসহ অন্যান্য কাজে বিমানবন্দরের জায়গা ব্যহার করে আসছে।
বিমান বন্দর সম্প্রসারণ কাজে ব্যবহারের জন্য বাঁকখালী নদীর ড্রেজিন করা লাখ লাখ ঘনফুট বালি, বিভিন্ন উপায়ে সংগ্রহকৃত মাটি, কোটি কোটি টাকার কংক্রিট, রড, সিমেন্ট রানওয়ে অভ্যন্তরে মজুদ করেছিল।এখন সেইসব নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষ (কউক) এর উন্নয়ন কাজে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কক্সবাজার বিমান বন্দর সড়ক সহ কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন সড়কে মাটি, বালিসহ নির্মাণ সামগ্রী বহনে ভারী যানবাহন ব্যবহার করায় সড়কের স্থায়ীত্ব নষ্ট হচ্ছে। বালি, মাটি পরিবহনে ব্যবহ্দত গাড়ীগুলো বেপরোয়া চলাচলের কারণে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে পথচারীসহ সাধারণ মানুষ। কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষের বাস্তবায়নাধীন রোড সংস্কারসহ সরকারী এক প্রতিষ্টানের মালামাল অন্য প্রতিষ্টানে ব্যবহার করে কোটি কোটি লুপাট করা হচ্ছে।এব্যাপারে কক্সবাজার বিমান বন্দর ব্যবস্থাপক মো. আবদুল্লাহ আল ফারুকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিমান বন্দরের ভিতরে মজুদ করা মালামাল বাহিরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা আমার জানা নেই। তবে এবিষয়ে খবর নেওয়ার কথা জানান তিনি।নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিমানবন্দর কাজের দেখভাল করার জন্য প্রকল্প পরিচালকও রয়েছেন। বিমান বন্দরের জন্য রয়েছে ব্যবস্থাপকও। কিন্ত তারা কোন তদারকি না করার সুযোগে বিমান বন্দর সম্প্রসারণ কাজের নির্মাণ সামগ্রী ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার এবং প্রতিনিয়ত নির্মাণ সামগ্রী বাইরে সরবরাহ দেয়ায় নিরাপত্তা বেষ্টনীতে থাকা বিমান বন্দরও অরক্ষিত হয়ে পড়েছে।উল্লেখ্য, কক্সবাজার বিমান বন্দরে রাত্রিকালিম ফ্লাইট পরিচালনা করার জন্য রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজার শহরের পুরনো ঝিনুক মার্কেটস্থ জেলে পার্ক, ১৭ ইসিবি এলাকা, বালিকা মাদ্রাসার পিছনে সৈকতপাড়া অধিগ্রহণ করে ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে ওই এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নেয় সরকার।
তবে কোন ধরনে দরপত্র আহবান না করে জেলেপার্কের পাশে ১৭ ইসিবি স্থাপনা, বালিকা মাদ্রাসার পিছনে সৈকত পাড়া, চলাচলের পাকা রাস্তা, বিভিন্ন স্থাপনা ও উচ্ছেদ এলাকার মসজিদের পুরাতন নির্মাণ সামগ্রী ইট, কংক্রিট, লৌহার রডসহ আরও বিভিন্ন প্রায় ২০ লাখ টাকা পুরনো মালামাল ভাঙ্গারী ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন বিমান বন্দরের উপ-সহকারীর প্রকৌশলী সোহেল রানা। আর এসব স্থাপনার পুরনো মালামাল মিনি ট্রাকের মাধ্যমে প্রকাশ্যে পাচার করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করে আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
© All rights reserved © 2019-2020 । দৈনিক আজকের সংবাদ
Design and Developed by DONET IT
SheraWeb.Com_2580