মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৯:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
টাংগাইল বন বিভাগের দোখলা সদর বন বীটে সুফল প্রকল্পে হরিলুট আগ্রাবাদ ফরেস্ট কলোনী বালিকা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হলেন মোজাম্মেল হক শাহ চৌধুরী ফৌজদারহাট বিট কাম চেক স্টেশন এর নির্মানাধীন অফিসের চলমান কাজ পরিদর্শন নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করায় দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবে: শেখ সেলিম সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের করমজল ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র চলছে সীমাহীন অনিয়ম এলজিইডির কুমিল্লা জেলা প্রকল্পের পিডি শরীফ হোসেনের অনিয়ম যুবলীগে পদ পেতে উপঢৌকন দিতে হবে না: পরশ নির্বাচন যুদ্ধক্ষেত্র নয়, পেশি শক্তির মানসিকতা পরিহার করতে হবে: সিইসি যুদ্ধ না, আমরা শান্তি চাই : প্রধানমন্ত্রী

কড়া শাসনের ঘেরাটোপে কিমের স্ত্রী!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময় : শনিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২১
  • ১০৮ পাঠক পড়েছে

২০১২ সাল থেকেই উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং-উনের পাশে এক নারীকে মাঝে মধ্যে দেখা যেতে শুরু করেছিল। তারপরই জানা যায় যে, তিনি রি সল-জু। কিম জং-উনের স্ত্রী। অর্থাৎ উত্তর কোরিয়ার ফার্স্ট লেডি। তিন সন্তানের মা রি। বিয়ের আগে তিনি একজন সঙ্গীতশিল্পী ছিলেন। কিন্তু কিম জং-কে বিয়ের পর থেকেই সবকিছু পাল্টে যায়। কড়া শাসনের ঘেরাটোপে দিন কাটাতে হয় তাকে।

২০০৯ সালে একপ্রকার জোর করেই কিম জং উনের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল তার! উত্তর কোরিয়ার প্রাক্তন শাসক কিম জং ইল (কিম জং উনের বাবা)-এর নির্দেশেই রি-কে বিয়ে করেন কিম। জানা যায়, ২০০৮ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। তখনই ছেলেকে এমন নির্দেশ দিয়েছিলেন। উত্তর কোরিয়ার মতো দেশে শাসকের নির্দেশ অমান্য করার স্পর্ধা কার রয়েছে!

বিয়ের পর স্বামীর পদবি গ্রহণ করার রীতি রয়েছে সে দেশে। কিন্তু রি-র জীবনে অন্য কিছু ঘটেছিল। তাকে নিজের নামও বদলে ফেলতে হয়েছে। স্বামীর কিম জং-এর ইচ্ছাতেই এমনটা করতে হয়েছিল তাকে। শুধু তাই নয়, তার সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয় না। তার জন্মস্থান, বয়স, ছেলেবেলা, বাড়ি—সব তথ্যই লুকিয়ে রাখা রয়েছে।

রি সল-জু কোনো সাধারণ পরিবারের মেয়ে নন। এক শিক্ষিত এবং ধনী পরিবারে জন্ম তার। বাবা কলেজের শিক্ষক এবং মা একটি হাসপাতালের স্ত্রী রোগ বিভাগের প্রধান। এক চাচার মাধ্যমেই উত্তর কোরিয়ার রাজ পরিবারের সঙ্গে পরিচয় তার। কাকা সেনা উপদেষ্টা ছিলেন। বিয়ের পর জীবন অনেকটাই পাল্টে যায় রি-র। নিজের ইচ্ছাতে এখন আর কিছুই তিনি করতে পারেন না। নিজের পরিবারের সঙ্গে দেখা করারও অনুমতি নেই। কী পরবেন, কী খাবেন, কী ভাবেই বা সাজবেন— সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারও নেই রি-র। বিয়ের পর প্রথম প্রথম আধুনিক পোশাক পরতে দেখা যেত তাকে। কিন্তু এখন আর সে সব পরতে পারেন না তিনি। রি কী পোশাক পরবেন সেটাও ঠিক করে দেন কিম। এখন জিনস পরাতেও নিষেধাজ্ঞা।

ইচ্ছে হলেও প্রকাশ্যে আসতে পারেন না। রি-কে কখনো প্রকাশ্যে একা দেখা যায় না। স্বামী কিমের অনুমতি মিললে তবেই তিনি বাড়ি থেকে বার হতে পারেন। তাও স্বামীর সঙ্গেই। তাই রি-কে যখনই দেখা যায়, পাশে তার স্বামী কিমও থাকেন। এমনকি তার সন্তানদেরও প্রকাশ্যে আসার অনুমতি নেই। অন্যান্য দেশের ফার্স্ট লেডি-রা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যান। বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। এ রকম কোনো কিছুতেই যুক্ত থাকার উপায় নেই রি-র। কিম জং-এর সবুজ সঙ্কেত না মিললে নিজের ছবি তুলতে পারেন না তিনি। কোথাও বেড়াতে যাওয়ার কথা কল্পনাতেও আনতে পারেন না।

বিয়ের আগে দেশ-বিদেশে গিয়েছেন রি। চিনে তার পড়াশোনা এবং প্রতিবেশী দেশ দক্ষিণ কোরিয়াতেও গিয়েছেন। কিন্তু বিয়ের পর সে সব পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। দেশের বাইরে বেরোনোর অনুমতি নেই। বিয়ের পরই তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যান। সেই সময়টা আরও ভয়ানক হয়ে উঠেছিল। নিজের ঘরের বাইরে তখন পা রাখতে পারতেন না নিজের ইচ্ছায়। সে সময় তাকে একেবারেই দেখা যেত না। ২০০৯ সালে তাদের বিয়ে হয়। ২০১০ সালে প্রথম সম্তানের জন্ম। প্রথম সন্তান মেয়ে। দ্বিতীয় সন্তানও মেয়ে। তৃতীয় সন্তান ছেলে। যত দিন না তাদের ছেলে হয়েছে, রি-কে বাধ্য করা হয়েছে সন্তানধারণ করতে।

নিউজটি শেয়ার করে আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
© All rights reserved © 2019-2020 । দৈনিক আজকের সংবাদ
Design and Developed by ThemesBazar.Com
SheraWeb.Com_2580