শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
টাংগাইল বন বিভাগের দোখলা সদর বন বীটে সুফল প্রকল্পে হরিলুট আগ্রাবাদ ফরেস্ট কলোনী বালিকা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হলেন মোজাম্মেল হক শাহ চৌধুরী ফৌজদারহাট বিট কাম চেক স্টেশন এর নির্মানাধীন অফিসের চলমান কাজ পরিদর্শন নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করায় দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবে: শেখ সেলিম সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের করমজল ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র চলছে সীমাহীন অনিয়ম এলজিইডির কুমিল্লা জেলা প্রকল্পের পিডি শরীফ হোসেনের অনিয়ম যুবলীগে পদ পেতে উপঢৌকন দিতে হবে না: পরশ নির্বাচন যুদ্ধক্ষেত্র নয়, পেশি শক্তির মানসিকতা পরিহার করতে হবে: সিইসি যুদ্ধ না, আমরা শান্তি চাই : প্রধানমন্ত্রী

জিয়াউর রহমান ছিলেন কার্যতপক্ষে একজন খুনি: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত সময় : শনিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২১
  • ৯৬ পাঠক পড়েছে

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন কার্যতপক্ষে একজন খুনি ও বিশ্বাসঘাতক। তিনি বলেন, ‘বিএনপির নেতারা ক্রমাগতভাবে বঙ্গবন্ধুর ভুমিকাকে অস্বিকার করে আসছে। তারা একজন খলনায়ককে নায়ক বানানোর অপচেষ্টা চালান। জিয়াউর রহমান ছিলেন কার্যতপক্ষে একজন খুনি ও বিশ্বাসঘাতক। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সাথে তিনি ওতোপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন। এই খুনির দলের রাজনীতি যারা করেন তারা বঙ্গবন্ধুর ভুমিকাকে অস্বিকার করে।’

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউট হলে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি নেতাদের খুনি এবং বিশ্বাসঘাতকের রাজনীতি ছাড়ার অনুরোধ জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘জাতির সামনে জিয়াউর রহমানের মুখোশ উম্মোচন করা হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি বাংলাদেশে যদি সুষ্ঠু রাজনৈতিক ধারা চালু করতে হয়, ইতিহাস ও রাজনীতিকে কলুষমুক্ত করতে হয়, তাহলে যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি করা নিষিদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। একইসাথে যারা বঙ্গবন্ধুর ভুমিকাকে খাটো করে দেখে এবং বঙ্গবন্ধুকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালায় তাদেরও রাজনীতি এদেশে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। একজন খুনি এবং বিশ্বাসঘাতকের পক্ষে যারা রাজনীতি করেন তাদের রাজনীতি করার অধিকার থাকা উচিৎ নয়।’ ড. হাছান বলেন, ‘আজকে স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও যে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে, যিনি ঘুমন্ত জাতিকে সশস্ত্র বাঙালি জাতিতে রূপান্তরিত করে বাঙালিদের জন্য প্রথমবারের মত ইতিহাসের পাতায় বাংলাদেশ রাষ্ট্র রচনা করেছেন, সেই বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর ভুমিকাকে অস্বিকার করা হয়, এটি পৃথিবীর কোন দেশে নাই। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ভারতে মহাত্মা গান্ধি, পাকিস্তানে কায়েদে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং যুক্তরাষ্ট্রে জজ ওয়াশিংটনের ভুমিকাকে খাটো করে কেউ কি রাজনীতি করতে পারবে, পারবেনা। কিন্তু আমাদের দেশে পারে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আজকে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণের পথে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলছে এবং অনেক স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আগে আমরা বলতাম ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত দেশ রচনা করতে। এখন বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে ইতিমধ্যে ক্ষুধাকে আমরা জয় করেছি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, গত দেড় বছর করোনাকালে বহু মাস-সপ্তাহ লকডাউন ছিল। করোনার শুরুতে কিছু কিছু বুদ্ধিজীবী ও টকশোবিদ যারা রাত ১২ টার পর টেলিভিশনের পর্দা গরম করেন তাদের অনেকে শঙ্কা-আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল, দেশে হাজার হাজার মানুষ না খেয়ে মরবে, রাস্তায় লাশ পড়ে থাকবে। তাদের সেই আশঙ্কাকে ভুল প্রমাণিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেড় বছরে একজন মানুষও অনাহারে মৃত্যুবরণ করেনি, এই খেটে খাওয়া মানুষের দেশে।

তিনি বলেন, দেশে এখন কোন খালি পায়ে মানুষ দেখা যায়না, ছেড়া কাপড় পড়া মানুষ খুঁজে পাওয়া যায়না। আকাশ থেকে কুড়ে ঘর সহজে দেখা যায়না। এটিই হচ্ছে বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। এটি কোন যাদুর কারণে হয়নি। শেখ হাসিনার যাদুকরি নেতৃত্বের কারণে এই পরিবর্তন হয়েছে, এটি অনেকের সহ্য হয়না।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি করোনার টিকা নিয়ে কত কুৎসা রটনা ও অপপ্রচার চালালো, পরে আবার নিজেরাই টিকা নিল। বিএনপির নেতারা টিকা নেয়ার ক্ষেত্রে গাধা জল গোলা করে খাওয়ার মতো কাজটাই করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন দেশের আশি শতাংশ মানুষকে টিকা দেয়া হবে। বিএনপি মনে করেছিল সরকার টিকা সংগ্রহ করতে পারবেনা। গণটিকা কার্যক্রম যখন শুরু হয়েছে তখন তাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৫১ সালে কমরেড মণিসিংকে চিঠি লিখেছিলেন আমি পূর্ব বাংলার স্বাধীনতার পরিকল্পনা করছি, আপনারা আমার সাথে থাকবেন কিনা। এনিয়ে তিনি কারাগারে বৈঠকও করেছেন। এটি কমরেড মণিসিংয়ের বক্তব্য। যা সেইসময়ে দৈনিক ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ছাপানো হয়েছে।

হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু বহু আগেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরিকল্পনা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু জানতেন কখন কোন কথাটি বলতে হয়, তিনি পরিকল্পনা করেছিলেন, প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কিন্তু তিনি সেটি প্রকাশ করেননি। বঙ্গবন্ধু স্বাধীকার আদায়ের আন্দোলনের মাধ্যমে ৬৬ সালে ছয়দফা ঘোষণা করলেন। ছয়দফার ভিত্তিতে জনমত গঠন করলেন। জনমত গঠন করে মানুষের মনন তৈরী করে তিনি নির্বাচনে গেলেন। নির্বাচনে গিয়ে তিনি প্রমাণ করলেন বাংলার মানুষ তার ছয়দফার পক্ষে আছে। এরপর ধীরে ধীরে বাঙালিকে আরো উদ্বেলিত করে ৭ মার্চ স্বাধীনতার ডাক দেন।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, সহ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, মহিউদ্দিন রাশেদ, সম্পাদক মন্ডলির সদস্য আবুল কাশেম চিশতি, নুরুল আনোয়ার চৌধুরী বাহার, ইঞ্জিনিয়ার মেজবাউল আলম লাভলু, ইঞ্জিনিয়ার মো. হারুন, প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী, সদস্য ইফতেখার হোসেন বাবুল, উত্তর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী দিলোয়ারা ইউসুফ প্রমুখ।

সূত্র-বাসস

 

 

নিউজটি শেয়ার করে আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
© All rights reserved © 2019-2020 । দৈনিক আজকের সংবাদ
Design and Developed by ThemesBazar.Com
SheraWeb.Com_2580