বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ০১:২২ পূর্বাহ্ন

ফেরিঘাটে বিশৃংখলা সৃষ্টি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়

শেখ নাজমুল:
  • প্রকাশিত সময় : বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৪৯ পাঠক পড়েছে

বিআইডব্লিউসিটি’র টার্মিনাল সুপারিনটেন্ড মহসিন ভুইয়ার বেপরোয়া ঘুষ ও বদলী বাণিজ্য

বিআইডব্লিউসিটি’র প্রধান কার্যালয় (টিএস) টার্মিনাল সুপারিনটেন্ড মহসিন ভুইয়া বেপরোয়া ঘুষ, বদলী বাণিজ্যর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ০৯-০১-২০১৯ মোঃ খলিলুর রহমান শিকদার সহকারী পরিচালক দূর্নীতি দমন কমিশন দুদক প্রধান কার্যালয়ের স্মারক নং-০০.০১.০০০০.৫০২.০১.০৯৯.১৮ তারিখ ০৭/০১/২০১৯ স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে মহসিন ভুইয়া সভাপতি বিআইডব্লিউটিসি ওয়ার্ক ইউনিয়ন ঢাকা এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পের টেন্ডার প্রাপ্তদের নিকট হইতে ওয়ার্ক অর্ডার প্রদানের পূর্বে কোটি কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের পত্রটি মহসিন ভুইয়ার নামে প্রেরণ করেন। অদৃশ্য কারনে সেই সকল দুদকের অভিযোগ আজও আলোর মুখ দেখে নাই।

একাধিক অভিযোগ সূত্রে জানা যায় মাওয়া ঘাটে প্রতিটি গাড়ীতে ৩২৯০, ৩৬০০ ও ৪০০০ হাজার টাকা আদায় করা হয় অথচ সরকারী মুল ভাড়া ১৮৫০/-, ১৪০০/- টাকা যার ফটোকপি বিআইডব্লিউটিসি’র চেয়ারম্যান এর কাছে একাধিকবার জমা প্রদান করলে তার বিরুদ্ধে কোন বদলী কিংবা শস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নাই। স্কেলে প্রতি মাসে ৩০ হাজার আদায় করা হয় যা এজিএম কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন এবং প্রতিটি ফেরী ঘাটে বিশৃংখলা সৃষ্টি করে প্রতিটি গাড়ীতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

এমনকি অর্থের বিনিময়ে বিস্পফোরক দ্রব্য যাত্রীফেরীতে পারাপার করা হচ্ছে। এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা বিআইডব্লিউটি’র মহসিন ভূইয়া জিএম, বাণিজ্যক আশিকুজ্জামান কর্মচারীদের উপর নির্মম অত্যাচার, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, বেতন বন্ধ, সামিয়ক বরখাস্ত, নিয়োগ বাণিজ্য, এমন কোন অন্যায় তারা করে নাই। তাদের মতে বাহিরে গেলে বদলি করে ও শ্রমিক কর্মচারীদের হয়রানি, মামলা , জিম্মি করে এখনো অর্থ আদায় করে চলছে মহসিন ভুইয়া গংরা প্রতিটি ফেরী ঘাটে নিজেরাই চাঁদাবাজি করে ও বিশংখলা সৃষ্টি করে দোষ চাপায় অন্যের ঘাড়ে।

এযেন মরার উপরে খরার ঘা। স্ব-ঘোষিত নেতা শ্রমিক লীগ নামধারী মহসিন (টিএস) টার্মিনাল সুপারিনটেন্ড ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা দীর্ঘদিন ধরে প্রধান কার্যালয়ে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে নিম্নমানের যন্ত্রাংশ স্ক্র্যাপ দিয়ে জাহাজ নির্মাণ, জায়গাজমি বিক্রিসহ নিয়োগ, বদলী, পোষ্টিং, টেন্ডারবাজী, পার্চেজ, ডেভলোপারের সাথে অতীত ও যত অবৈধ কাজগুলি বাস্তবায়ন করছে। ‘‘টিএস” পদটির কর্মস্থল মেনিংস্কেলের, প্রবিধানমালায় ও অর্গানোগ্রামেও নেই। কিন্তু মহসিন ভুইয়া নিয়ম বর্হিভুতভাবে দীর্ঘ ১০ বছরের উর্দ্ধে বিআইডব্লিউটিসি’র প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত থেকে দূর্নীতির স্বর্গরাজ্যের পরিণত করেছেন। সরকারী বিধিমালায় একই স্থানে ৩ বছরের উর্দ্ধে কর্মরত থাকতে পারবেন না।

কিন্তু মহসিন ভুইয়া দীর্ঘদিন একই জায়গায় কর্মরত থাকার কারনে বিশাল একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন, তাদের মাধ্যমে সকল অবৈধ কর্মকান্ড পরিচালনা করে থাকেন। এদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। মহসিন ভুইয়ার প্রকাশ্য মদদ দাতা আশিকুজ্জামান, পরিচালক, জিএম বাণিজ্য বিআইডব্লিউটিসি’র অফিসার্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট, জুনিয়র হয়েও সিনিয়রদের কে টপকিয়ে জিএম পদটি বাগিয়ে নেন অবৈধ টাকার প্রভাবে। সিনিয়ররা তার কাছে অসহায়ের মত। প্রতিটি ক্ষেত্রে নৈরাজ্য ও ত্রাশের রাজত্ব কায়েম করে চলেছেন। জিএম বাণিজ্যর যোগসাজসে সংস্থার স্থাবর-অবস্থাবর সম্পত্তি গুলি বেহাত হয়ে যাচ্ছে/২৪ কাজি নজরুল ইসলামসহ ৫নং দিলকুশার জমি খাজনা না দেওয়ার ফলে খাস জমি হিসেবে খতিয়ানে তালিকাভুক্ত হয় কিভাবে/২নং ডকইয়ার্ডে চারপাশের ওয়াল নির্মাণের সময় প্রায় ৬৪০ শতাংশ জমি মহসিনের ইউনিট নেতা আক্তারসহ বিভিন্ন জনের নিকট থেকে প্রায় ২ কোটি টাকার বিনিয়োগ হস্তান্তর করে। তারা ডেভলোপারের সাথে আতত করে (মহসিন গংরা) গুলশান ও ৮৫ সিরাজদৌলা রোড নারায়ণগঞ্জ প্রজেক্টটি হাওয়া হয়েগেছে।

বিআইডব্লিউটিসি’র ১৬ কোটি টাকা দিয়ে টিনের ঘর বানালেন যা একটু বৃষ্টি হলেও ঘরের ভিতরে পানি পড়ে। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দিবালোকের মত সত্য। ফগ লাইট-১টির দম ২৫০০/- (দুই হাজার পাঁচ শত) টাকা। আর সংস্থার সিন্ডিকেটের নিকট থেকে ক্রয় করে প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা। যেমন রেকার ক্রয় করলেন ৪০ টন বাস্তবে ১০ টন। ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলীর পরিচালক বাণিজ্য আশিকুজ্জামান ও মহসিন ভুইয়া যোগসাজসে এভাবে কয়েক বছরেই কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক বনে গেছেন। বিআইডব্লিউটিসি কর্মচারীদের একটাই প্রশ্ন মহসিন ভুইয়া তৃতীয় শ্রেণীর একজন কর্মচারী হয়ে, কিভাবে শত কোটি টাকার মালিক হলেন?

ঢাকা ঘাটে বিআইডব্লিউটিসি’র নির্মাণাধীন মার্কেটের নীচ তলায় একটি দোকান থেকে ভাড়া থেকে প্রতি মাসে উত্তোলন করে মহসিন নিজে পকেটে ভারী করেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা আড়াই হাজার উপজেলায় ১০ তলা বাড়ী আরেকটি ৩ তলা একটি বাড়ী বিশাল এলাকা নিয়ে। কাচপুর গাউছিয়া মার্কেটে ১০টি দোকান, এছাড়া নামে বে-নামে কোটি কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন বিআইডব্লিউটিসি’র ৩য় শ্রেণীর কর্মচারী মহসিন ভুইয়া, যা দুদক তদন্ত করলেই ঐ সকল অবৈধ সম্পদের খোজ মিলবে। নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় ও দুদক উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত করলে সকল অভিযোগ প্রমাণিত হবে বলে মনে করেন বিআইডব্লিউটিসি ও নিরীহ কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ।

নিউজটি শেয়ার করে আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
© All rights reserved © 2019-2020 । দৈনিক আজকের সংবাদ
Design and Developed by ThemesBazar.Com
SheraWeb.Com_2580