শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৮:২০ পূর্বাহ্ন

বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার কাউন্সিল সদস্য বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • প্রকাশিত সময় : শুক্রবার, ১৮ জুন, ২০২১
  • ৫৪ পাঠক পড়েছে

এশিয়া অঞ্চল থেকে ২ বছরের (২০২২-২০২৪) জন্য আন্তর্জাতিক খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) কাউন্সিলের সদস্য মনোনীত হয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া, বাংলাদেশ এফএও’র ক্রিডেনশিয়াল কমিটিরও সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছে।

সংস্থাটির চলমান ৪২তম কনফারেন্সে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, কৃষিমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল ও রোমে বাংলাদেশ দূতাবাসের যৌথ প্রচেষ্টায় এ সম্মান অর্জন সম্ভব হয়েছে এবং এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থার প্রতিফলন ঘটেছে।

কোভিড-১৯ এর কারণে ১৪-১৮ জুন ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের এফএও সম্মেলন। কৃষিমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৮ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছেন।

ঢাকা থেকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব মো. রুহুল আমিন তালুকদার, যুগ্ম সচিব তাজকেরা খাতুন, উপসচিব আলী আকবর ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপসচিব বিধান বড়াল অংশগ্রহণ করছেন। ইটালির রোম থেকে অংশগ্রহণ করছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শামীম আহসান ও ইকনমিক কাউন্সিলর মানস মিত্র।

এর আগে সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন গম মঙ্গলবার দুপুরে অধিবেশনে ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক ‘স্টেট অব ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারে (এসওএফএ)’ বাংলাদশের অবস্থান তুলে ধরেন। একইদিন সন্ধ্যার অধিবেশনে তিনি এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক অঞ্চলের (এপিআরসি) ৪৬টি সদস্য দেশের পক্ষ থেকে যৌথ বিবৃতি প্রদান করেন।

‘স্টেট অব ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার’ অংশের ভাষণে বাংলাদেশ খাদ্য ও কৃষিতে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক।

তিনি জানান, বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির উন্নয়নে অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০ বছর আগে ১৯৯৯-২০০০ সালে এ সরকারের আগের আমলে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে এবং তা ধরে রেখেছে। মাথাপিছু আয় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে ও দারিদ্র্য হ্রাস পেয়েছে। এ ছাড়া, বিগত দশকে অপুষ্টি দুই-তৃতীয়াংশ হ্রাস পেয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, চলমান কোভিড-১৯ এর শুরুতেই খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, সরবরাহ অব্যাহত রাখা ও দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। অধিক ফসল উৎপাদনের জন্য প্রতি ইঞ্চি জমি চাষের আওতায় আনতে নানামুখী প্রণোদনা প্রদান করেন।

তিনি জানান, কৃষিখাতে করোনার প্রভাব মোকাবিলায় ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা এবং নির্দেশনায় দেশে কৃষির উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহের ধারা অব্যাহত থাকে। সেই সঙ্গে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ ১১ লাখ রোহিঙ্গাও বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা, অর্থনীতি ও পরিবেশে বিরূপ প্রভাব ফেলছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

এপিআরসি পক্ষ থেকে যৌথ বিবৃতিতে মন্ত্রী খাদ্য ও কৃষিতে কোভিডের প্রভাব মোকাবিলায় সমন্বিত কর্মসূচি নিয়ে এফএওকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, টেকসই ও পুষ্টিসম্মত খাদ্য ব্যবস্থা, ডিজিটাল উদ্ভাবন, জলবায়ুঘাত সহনশীল প্রযুক্তি, খাদ্য অপচয় হ্রাস ও নিরাপদ খাদ্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এফএওর সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করতে হবে।

এ ছাড়া, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের পানি স্বল্পতা ও পানি সমস্যা নিরসনের জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান মন্ত্রী। পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও বণ্টনের জন্য একটি ‘উচ্চ পর্যায়ের সম্মিলিত সংগঠন বা প্ল্যাটফর্ম গঠনেরও প্রস্তাব করেন তিনি।

 

নিউজটি শেয়ার করে আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
© All rights reserved © 2019-2020 । দৈনিক আজকের সংবাদ
Design and Developed by ThemesBazar.Com
SheraWeb.Com_2580