বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন

রাঙ্গামাটি উত্তর বন বিভাগের বাঘাইহাট রেঞ্জে ফরেস্টার ফারুক হোসেন’র রামরাজত্ব

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত সময় : বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৯৬ পাঠক পড়েছে

রাঙ্গামাটি উত্তর বন বিভাগের বাঘাইহাট রেঞ্জে চলছে হরিলুট। চলছে ভুয়া জোট পারমিটের অনুবলে ইস্যুকৃত টিপি মূলে সংরক্ষিত বনাঞ্চল উজাড় করে আহরিত অবৈধ কাঠ বোঝাই ট্রাক থেকে চেকিং এর নামে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়। প্রতিদিনই ১০ থেকে ২০ টি ট্রাক বোঝাই চোরাই কাঠ এই চেকপোস্ট দিয়ে পাচার হলেও দেখার কেউ নেই।

দায়িত্বে নিয়োজিত ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা ফরেস্টার ফারুক হোসেন ট্রাক প্রতি মোটা অংকের বিনিময়ে কাঠ পাচারে মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন। প্রত্যেকটি চোরাই কাঠ বোঝাই ট্রাক থেকে তিনি ৮/১০ হাজার টাকা হারে তিনি ঘুষ আদায় করেন। টাকা না দিলে ট্রাক বোঝাই কাঠের সাথে টিপিতে বর্ণিত কাঠের মিল নেই বলে কাঠ ও ট্রাক জব্দ করার হুমকি দেন। ট্রাক মালিককে তাই বাধ্য হয়ে এই টাকা দিতে হয়। এভাবে ১০/২০ টি গাড়ি থেকে প্রতিদিন দেড়/দুই লাখ টাকা ঘুষ আদায় হয়। যার অর্ধেক ফরেষ্টার ফারুক হোসেন পেয়ে থাকেন। বাকি অর্ধেক সংশ্লিষ্ট সিএফ, ডিএফও এসিএফ সহ তার অধীনস্থদের মধ্যে বন্টন হয়।

তিনি দীর্ঘদিন এই রেঞ্জের দায়িত্বে থেকে কয়েক কোটি টাকা অবৈধ উপার্জন করেছেন। তাছাড়া এই রেঞ্জ থেকে যেসকল জোত পারমিট ইস্যু হয় তা ভূমির অবস্থানে নিরপেক্ষ তদন্ত করলে গাছের কোন অস্তিত্ব পাওয়া যাবে না। এই রেঞ্জের অধীনে কোন জোট বাগান না থাকলেও পূর্বে কাটা গাছের মোথা গুনে সে মোতাবেক টিপি ইস্যু করা হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ অবগত থাকলেও অজ্ঞাত কারনে নিরব ভূমিকা পালন করে থাকেন। এই রেঞ্জে ে যসব জোট পারমিট ইস্যু হয় তা সম্পূর্ন কাল্পনিক ও ভূয়া। ইস্যুকৃত জোট পারমিটে ভূমির অবস্থানে নিরপেক্ষ তদন্ত করলে গাছের কোন অস্তিত্ব পাওয়া যাবেনা।

পারমিটে বর্নিত গাছ রিজার্ভ ফরেষ্ট এবং বিভিন্ন লোকের বাড়ী থেকে সংগ্রহ করা। যা বনজদ্রব্য পরিবহন নীতিমালা পরিপন্থী। খোজ নিয়ে জানা যায়, ফরেষ্টার ফারুক হোসেন কাঠ চুরি ও পাচারে সিদ্ধহস্ত। দীর্ঘ চাকুরী জীবনে দুর্ণীতি অনিয়মের মাধ্যমে তার দেশের বাড়ী ঢাকার ধামরাইয়ের চৌহাটী মৌজায় স্ত্রীর নামে ২১ বিঘা জমি, রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুর ও রামপুরায় নিজ নামে ২টি ফ্ল্যাট, স্ত্রী ও নিজ নামে ন্যাশনাল ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, জনতা ব্যাংকের মোহাম্মদপুর ঢাকা শাখার একাউন্টে রয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা। এতকিছুর পরেও ফরেষ্টার ফারুক রয়ে গেছেন সকল ধরা ছোয়ার বাইরে। বাঘাইহাট রেঞ্জের অব্যাহত দূর্ণীতি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয় অধিবাসীরা।

নিউজটি শেয়ার করে আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
© All rights reserved © 2019-2020 । দৈনিক আজকের সংবাদ
Design and Developed by ThemesBazar.Com
SheraWeb.Com_2580