শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ০৩:২৭ অপরাহ্ন

শোলাকিয়ায় এবারও হচ্ছে না ঈদের জামাত

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ১১ মে, ২০২১
  • ৩৬ পাঠক পড়েছে

শোলাকিয়ার ঈদের নামাজ বাড়তি উচ্ছ্বাস হয়ে ধরা দেয় কিশোরগঞ্জবাসীর কাছে। ঈদের দিন ঐতিহ্যবাহী এ ঈদগাহ ময়দান পরিণত হয় লাখো মুসল্লির মিলন মেলায়। কিন্তু গতবারের মতো এবারও করোনা মহামারি থামিয়ে দিয়েছে ঈদ জামাতের সব আয়োজন।

এরইমধ্যে জেলা প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে এই সিদ্ধান্তের কথা। তাই ঈদের আগে শোলাকিয়া ঘিরে যে তোড়জোড়, প্রস্তুতি থাকে, তার সবই অনুপস্থিত। স্থানীয়দের মনে এ নিয়ে আক্ষেপ থাকলেও করোনা সংক্রমণ রোধে প্রশাসনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে তারা।

গত রবিবার (৯ মে) শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটি এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা থেকে এবারও ঈদের নামাজের আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত আসে। মুসল্লিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম।

২০০ বছরের ইতিহাসে কোনো দুর্যোগে বন্ধ থাকেনি এখানে ঈদের জামাত। ২০১৬ সালে মাঠের অদূরে জঙ্গি হামলার পরও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় শোলাকিয়ায়।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে মুসল্লিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় জানিয়ে জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শামীম আলম বলেন, ‘ঈদের দিন লাখো মানুষ শোলাকিয়ায় নামাজ আদায় করেন। এখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাজ আদায় করা কঠিন। মুসল্লিদের জীবনের ঝুঁকি ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শোলাকিয়ার ঈদের জামাত বন্ধ রাখা হয়েছে। এর পরিবর্তে সবাইকে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে মসজিদে নামাজ আয়োজন করতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্টদের। তবে মসজিদে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। আর বিষয়টি নজরদারি করবে জেলা প্রশাসন।’

মোহাম্মদ শামীম আলম জানান, শুধু শোলাকিয়ায় নয়, জেলার কোথাও কোনো ঈদগাহ বা খোলামাঠে এবারও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে না। তবে শোলাকিয়া জামাত না হলেও শহরের পাগলা মসজিদ ও শহীদী মসজিদে সীমিত পরিসরে একাধিক জামাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জানা গেছে, জেলা শহরের প্রধান দুই মসজিদের মধ্যে শহীদী মসজিদে ঈদের দিন সকাল ৮টায় প্রথম জামাত ও ৯টায় দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আর পাগলা মসজিদে প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়।

পাগলা মসজিদের সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. পারভেজ মিয়া বলেন, স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে বৃহত্তর স্বার্থের কথা মাথায় রেখে শোলাকিয়ার ঈদুল ফিতরের নামাজ বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন। তাই পাগলা মসজিদে বেশ কয়েকটি জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে মুসল্লিরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাজ আদায়ের সুযোগ পাবেন।

প্রতিবছর এই ঈদগাহ মাঠে নামাজ আদায় করেন শোলাকিয়ার বাসিন্দা মো. আব্দুল হাই। তিনি বলেন, ‘মনে আক্ষেপ থাকলেও প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই আমি। কারণ বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মুসল্লি ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করতে আসেন এখানে। বিপুল জমায়েতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে যেতে পারে। এ ঝুঁকি নেওয়া ঠিক হবে না। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা আবার শোলাকিয়ায় নামাজ আদায় করব।’

কিশোরগঞ্জ শহরের উত্তর-পূর্বকোণে নরসুন্দা নদীর পাশে শোলাকিয়া এলাকাটির অবস্থান। জনশ্রুতি রয়েছে, শোলাকিয়া ঈদগাহের প্রথম বড় জামাতে সোয়া লাখ মুসল্লি অংশ নিয়েছিলেন। উচ্চারণ বিবর্তনে সোয়ালাখ থেকে সোয়ালাখিয়া, সেখান থেকে বর্তমান শোলাকিয়া নামটিই বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত।

 

 

নিউজটি শেয়ার করে আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
© All rights reserved © 2019-2020 । দৈনিক আজকের সংবাদ
Design and Developed by ThemesBazar.Com
SheraWeb.Com_2580