রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ০৫:৪৫ অপরাহ্ন

নৌ যোগাযোগে আরেকটি মাইল ফলক

নিউজ ডেক্স:
  • প্রকাশিত সময় : শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৮৮ পাঠক পড়েছে

আরিচা-কাজিরহাট ফেরি চলাচল শুরু

আশীষ কুমার দে: অভ্যন্তরীণ নৌখাতের উন্নয়নে আরেকটি মাইল ফলক স্থাপন করলো সরকার। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে থেকে আরিচা-কাজিরহাট নৌপথে পুনরায় চালু হলো ফেরি সার্ভিস। শনিবার সকালে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী মানিকগঞ্জের আরিচা প্রান্তে এই ফেরি সার্ভিস উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গিকার বাস্তবায়নে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে যাতায়াতকারী জনসাধারণের জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে উপহারস্বরূপ আরিচা-কাজিরহাট ফেরি সার্ভিস ফের চালু করা হয়।

এক সময়ের অতিগুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে আবারো ফেরি চলাচল শুরুর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর ফের এই ফেরি সার্ভিস চালু হওয়ায় ঢাকা, মানিকগঞ্জ ও রাজবাড়ির জেলার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে স্থানীয় সাংসদ এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক, বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

মানিকগঞ্জের আরিচা থেকে পাবনার কাজিরহাট পর্যন্ত নৌপথের দূরত্ব ১৪ কিলোমিটার। আরিচা থেকে কাজিরহাট যেতে সময় লাগবে এক ঘন্টা ৩০ মিনিট; আর কাজিরহাট থেকে আরিচা আসতে সময় লাগবে এক ঘন্টা ১০মিনিট। আপাতত একটি রো রো (বড়) ও দু’টি মিডিয়াম ফেরি দিয়ে এ নৌপথের ফেরি সার্ভিস শুরু হলো। ফেরি পার হওয়ার জন্য ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে বড় বাসের ২০৬০, ট্রাকের ১৪০০, মাইক্রোবাসের ১০০০, কার (ছোট গাড়ি) ভাড়া ৬৮০, মোটরসাইকেল ১০০ এবং যাত্রীর ক্ষেত্রে জনপ্রতি ২৫ টাকা।

বর্তমানে আরিচা-কাজিরহাট নৌপথ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগের একটি অন্যতম জনগুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে পরিগণিত হবে। পাশাপাশি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালামাল ও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সাজোয়া যানসহ অন্যান্য ভারি যানবাহনসমূহ আরিচা ও কাজিরহাট ফেরিঘাট দিয়ে পারাপার হতে পারবে। জনগুরুত্বপূর্ণ ঘাটসমূহ নির্মাণ, সংরক্ষণ ও মেরামত এবং যাত্রী সুবিধাদিসহ সুষ্ঠুভাবে ঘাট পরিচালনার সেবা কাজ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সম্পন্ন করেছে। নৌপথের দুই প্রান্তে নদীর পারে বিআইডব্লিউটিএ ফেরিঘাট নির্মাণসহ নৌপথের প্রয়োজনীয় ড্রেজিং এবং বয়া-বাতি স্থাপন করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) একটি রো রো (বড়) ফেরি এবং দু’টি মিডিয়াম ফেরি এ নৌপথে নিয়োজিত করেছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার পূর্বে বাংলাদেশ কার্যত: ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনা এবং পদ্মা নদী দ্বারা পূর্ব ও পশ্চিমে দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। সেই সময় ঐতিহাসিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ দুটি ফেরিঘাট আরিচা-দৌলতদিয়া এবং আরিচা-নগরবাড়ী যথাক্রমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের যানবাহন পারাপারে আরিচা নদীবন্দরের আওতায় পরিচালিত হতো। ফেরি পারাপারের অন্যতম প্রধান ঘাট হিসেবে তখন থেকেই নগরবাড়ী উত্তরাঞ্চলে পরিবহন সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, পরবর্তী সময়ে নৌপথের দুরত্ব হ্রাসসহ উন্নত যাত্রী সেবা নিশ্চিত কল্পে ২০০২ সালে ফেরিঘাট আরিচা হতে পাটুরিয়াতে স্থানান্তর করা হয়। বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ায় নগরবাড়ী নৌপথে ফেরি সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায় এবং ফেরিঘাট আট কিলোমিটার ভাটিতে কাজিরহাটে স্থানান্তর করা হয়। তবে ঘাট স্থানান্তর করা হলেও ব্যবহারকারীদের কাছে এর গুরুত্ব কোনো অংশেই কমে যায়নি। আরিচা হতে কাজিরহাটে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল অব্যাহত রয়েছে এবং এর হার আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক সমীক্ষায় দেখা যায় যে, বৃহত্তর পাবনাসহ আশপাশের জেলার জনসাধারণের জন্য বঙ্গবন্ধু সেতু ব্যবহারের চেয়ে আরিচা-কাজিরহাট নৌপথ ব্যবহার করা অর্থ এবং সময় উভয় ক্ষেত্রেই সাশ্রয়ী। সমীক্ষায় আরো দেখা যায়, গত বছর এ ঘাট ব্যবহার করে প্রায় ২৮ লক্ষ যাত্রী পারাপার হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করে আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
© All rights reserved © 2019-2020 । দৈনিক আজকের সংবাদ
Design and Developed by DONET IT
SheraWeb.Com_2580