শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ০৬:২৯ অপরাহ্ন

জাতীয় রাজনীতিতে বিরাজ করছে স্থবিরতা

নিউজ ডেক্স:
  • প্রকাশিত সময় : বুধবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৭১ পাঠক পড়েছে

শত চেষ্টায়ও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বিএনপি

রাজপথে সোচ্চার আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ

সীমিত ক্ষমতা নিয়েও সক্রিয় সিপিবি-বাসদ

ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনে সরব ছাত্র ইউনিয়ন

আশীষ কুমার দে : জাতীয় রাজনীতিতে বিরাজ এক ধরনের স্থবিরতা। ক্ষমতাসীন ১৪ দলের প্রধান শরিক আওয়ামী লীগের দখলেই রয়েছে রাজপথ। সব ধরনের কর্মকান্ডে দলটির নেতাকর্মীরা সোচ্চার। এর বাইরে যতোটুকু চোখে পড়ে, তা হচ্ছে- বামপন্থী কিছু দলের নিয়মিত কর্মসূচি পালন; যা মূলত: পুরানা পল্টন, তোপখানা ও জাতীয় প্রেসক্লাবকেন্দ্রীক। এছাড়া কয়েকটি ইসলামী দলও মাঝেমধ্যে ইস্যুভিত্তিক কিছু কর্মসূচি পালন করে থাকে। এর বাইরে অন্য কোনো দল বিশেষ করে সাবেক দুই শাসক দল বিএনপি ও জাতীয় পার্টির উল্লেখযোগ্য তৎপরতা নেই বললেই চলে। তবে ছাত্র রাজনীতিতে বাম ছাত্র সংগঠনগুলো বেশ সক্রিয় রয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ২০১৩ সালে গড়ে ওঠা গণজাগরন মঞ্চ থেকে শুরু করে ধর্ষণ ও হত্যার মতো জঘন্য নারী নিপীড়নসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে পেরেছে এসব সংগঠন। এদের মধ্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সহযোগী সংগঠন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট প্রথম সারিতে রয়েছে। আর সরকারি দল আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সারা দেশেই রয়েছে শক্তিশালী ভূমিকায়। এদিকে শত চেষ্টা করেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বা পারছে না বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। বরং দলটি নানা ঘাত-প্রতিঘাতে জর্জরিত হয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় পড়েছে। ক্ষমতাকেন্দ্রীক রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ হলেও গত একযুগ রাজপথের বিরোধী দলে থেকেও শক্তিশালী কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী এ দলটি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিএনপির প্রধান সমস্যা যোগ্য নেতৃত্বের অভাব। চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডাদেশ, দীর্ঘ কারাবাস, পরবর্তী সময়ে শর্তসাপেক্ষে প্যারোলে মুক্তি এবং বার্ধক্যজনিত কারণে দলটির কর্মপন্থা নির্ধারণে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সাজার রায় ঘোষণার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সনের দায়িত্বপ্রাপ্ত তারেক রহমান দীর্ঘ ১৩ বছর লন্ডনে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘকাল নির্বাসিত কোনো নেতার দলীয় শীর্ষপদ আখড়ে রাখার নজির এই প্রথম। এ কারণে দল সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না এবং অনেক সিনিয়র নেতা দল ত্যাগ করছেন অথবা নিস্ক্রিয় হয়ে গেছেন বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করেন। তবে কেউ কেউ বলছেন, সরকারের দমন নীতির কারণে বিএনপি রাজপথে নামতে পারছে না। তাঁদের ভাষায়, বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করতে চাচ্ছে সরকার। অন্যদিকে, বামপন্থী রাজনীতিবিদরা বহুধা বিভক্ত হওয়ায় সম্মিলিতভাবে অভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে পারছেন না তাঁরা। সিপিবি, বাসদ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদ ছাড়া অন্য বামদলগুলো সাংগঠনিকভাবে খুবই দুর্বল। এর মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টি এবং নেতৃত্বের দ্বন্ধে দ্বিখন্ডিত জাসদ (জাসদ ও বাংলাদেশ জাসদ) রয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলে। এছাড়া ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সিপিবি ও বাসদসহ কয়েকটি বাম দল মিলে বাম গণতান্ত্রিক মোর্চা গঠিত হলেও তাদের তৎপরতা কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। এই মোর্চার অধিকাংশ দলই নামসর্বস্ব। তবে বেশ কয়েক বছর আগে সিপিবি ও বাসদ মিলে যে যৌথ প্লাটফরম গঠিত হয়েছিল এবং তার ভিত্তিতে দল দুটি যেসব যৌথ কর্মসূচি পালন করছিল তা বেশ সাড়া জাগিয়েছিল। কিন্তু সে কর্মকান্ড খুব বেশিদূর এগোয়নি। তবে এখনও পর্যন্ত সিপিবি ও বাসদ- দুটি দলই তাদের সীমিত শক্তি নিয়ে বিভিন্ন ইস্যুতে রাজপথে সক্রিয় রয়েছে। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকা জাতীয় পার্টির অবস্থাও নাজুক। দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের মৃত্যুর পর দলের মধ্যে নেতৃত্বের কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। প্রথমে চেয়ারম্যান, এরপর সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচন এবং সর্বশেষ মহাসচিব পদ নিয়ে জি এম কাদের ও এরশাদ-পত্নি রওশন এরশাদের মধ্যে বিরোধের জেরে শীর্ষ নেতারাও দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েন। ভাঙন ঠেকাতে একপর্যায়ে দায়সারা কাউন্সিলের মাধ্যমে জি এম কাদেরকে দলের চেয়ারম্যান ও সংসদের উপনেতা এবং রওশনকে দলের প্রধান উপদেষ্টা ও বিরোধীদলীয় নেতা করা হয়। সর্বশেষ মহাসচিব পদ থেকে মসিউর রহমান রাঙ্গাকে সরিয়ে তাঁর স্থলাভিসিক্ত করা হয় জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে। তবে একসময়ের ক্ষমতাসীন এ দলের সাংগঠনিক তৎপরতা এখন নেই বললেই চলে। এর বাইরে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম গত নির্বাচনের আগে বেশ সাড়া জাগিয়েছিল। বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট, আ স ম আব্দুর রবের জেএসডি, কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও ড. অলি আহমদের লিবারেল ডেমোক্রটিক পার্টিকে (এলডিপি) সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছিলেন ড. কামাল। এরপর ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দফায় দফায় সংলাপ এবং জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘটনা সে সময় বেশ আলোড়ন তুলেছিল। কিন্তু নির্বাচনে ভরাডুবির পর ঐক্যফ্রন্ট ভেঙে যায়; এমনকি খোদ গণফোরামও ভাঙনের মুখে পড়ে। অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও মেজর (অব.) আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বাধীন বিকল্প ধারা বাংলাদেশ গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হয়ে কয়েকটি আসনে দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন নিশ্চিত করেছিল। যদিও ওই নির্বাচনে মাত্র দু’জন প্রার্থী মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান ও মাহী বি চৌধুরী জয়ী হন। এরপর দলটির কোনো তৎপরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

নিউজটি শেয়ার করে আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
© All rights reserved © 2019-2020 । দৈনিক আজকের সংবাদ
Design and Developed by DONET IT
SheraWeb.Com_2580